বুধবার, ২৪ Jun ২০২৬, ০৯:২২ পূর্বাহ্ন
আগামী কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের গো- খামারিরা গরু মোটা তাজাকরণ শুরু করেছে। কিন্তু গরুর অন্যতম খাদ্য খড়ের দাম বাড়ছে হু হু করে। লাগামহীন খড়ের বাজারে প্রতি মন খড় বিক্রি হচ্ছে পাঁচ’থেকে ছয়শত টাকায়। এতে করে কৃষকের মুখে হাঁসি ফুটলেও বিপাকে পড়েছেন গো-খামারি ও গৃহস্থরা।
ইতোপূর্বে খড়ের বাজার এমন লাগামহীন হয়নি বলে দাবি খামারিদের। খামারিরা বলছেন, খড়ের দাম বৃদ্ধি। প্রতি মন খড় পাঁচশত থেকে ছয়শত টাকায় কিনতে হচ্ছে। যে খড়ের দাম আগে ছিল চারশত টাকা মন। বেশি মূল্য দিয়ে শুধু খড় নয়, দানাদার খাদ্যও কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। অনেকে আবার একটু দাম কম পাওয়ার আশায় জমির মালিককে অগ্রিম টাকাও দিয়ে রেখেছেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানান, কুড়া-ভূসির পাশাপাশি ধানের খড় গরুর জন্য উৎকৃষ্ট খাদ্য। কুড়া-ভুসির সঙ্গে খড় কেটে ভিজিয়ে গরুকে খাওয়ানো হয়। গরুর সঠিক বৃদ্ধির জন্য এই খাদ্যের বিকল্প নেই। তাই খামারী অথবা ব্যক্তিগত গরু পালনকারীদের সারা বছরের জন্য খড়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
শাহজাদপুর উপজেলার চর নারুয়া গ্রামের গো-খামারি নাবেদ আলী বলেন, আগে ধান মাড়াইয়ের জন্য কোনো যন্ত্র ছিল না। বর্তমানে ধান মাড়াইয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে গো খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। কারণ মেশিনে ধান মাড়াই করলে অধিকাংশ খড় নষ্ট হয়ে যায়। আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার অনেকাংশেই এ জন্য দায়ী।
গো-খাদ্যের সংকট ও দাম লাগামহীন হওয়ায় অনেক খামারি গরু পালনের প্রতি অনীহা প্রকাশ করেছেন বলে জানান একই উপজেলার ভাজিয়ারপাড়া গ্রামের বরাত সেখ।
শাহজাদপুর বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় খড় কিনতে আসা নাবেদ আলী বলেন, আমার খামারে ৪০টি গরু আছে। এখান থেকে গত মাসে ৫৫০ টাকা দরে প্রায় তিন’শ মন খড় কিনেছি। এতো দামে আর কতদিন খাওয়াবো।
বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকার খড় ব্যবসায়ী খোকন সেখ বলেন, আমরা ৯ জন মিলে বগুড়া ও নওগাঁ জেলা থেকে খড়ের পালা কিনে এনে এখানে বিক্রি করি। এ কাজে আরও ৬০/৭০ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করে। আগে প্রতিদিন দুই হাজার মন খড় বিক্রি হতো। এখন এক হাজার মন বিক্রি হয়। এতে আমাদের প্রতি মনে খরচ হয় ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। আর আমরা পাঁচশত থেকে ছয়শত টাকায় বিক্রি করি।
এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ গৌরাংগ কুমার তালুকদার বলেন, আগের তুললায় বর্তমানে খড়ের দাম একটু বেড়েছে। এতে কৃষকের লাভ হলেও খামারিরা পড়েছে বিপাকে। সেই জন্য খামারিদের শুধু খড়ের ওপর নির্ভর না হয়ে উন্নত মানের ঘাস চাষ করলে গো-খাদ্যের চাহিদা মেটানো যাবে। আমরা গো খাদ্যের সংকট এড়াতে প্রকল্পের মাধ্যমে রেল লাইন, রাস্তার ধার ও কৃষকের প্রায় ১০০ একর জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষাবাদ করা হচ্ছে। যা জেলার ৫৭ টা স্থায়ী বাজারে বিক্রি করা হবে।